ইচ্ছেঘুড়ি........
ছেলেটা আজকাল প্রায় শুনছে পাগলামি করার বয়সটা আর নেই।এই বয়সে এটা? এই বয়সে ঐটা? না না তোমার বয়স হয়েছে,এখন আর সম্ভব না। চাইলেই এখন আর হুটহাট করে কোন কিছু করা যায় না,অদৃশ্য কোন এক শিকলে বাধা পড়েছে জীবনটা।দুরন্ত,নিশ্চিত, নির্ভার সময় গুলো অনেকটা পিছনে ফেলে এসেছে সে....
আসলেই কি তাই? ছেলেটি ভাবনায় পড়ে যায়।তাহলে এত্ত এত্ত স্বপ্ন ছিলো যে আমার? সেগুলো? সেগুলোর কি হবে?কি হবে আমার স্বপ্নঘুড়িটার?....
মাঝে মাঝেই ভাবনায় চলে আসে আরেকবার যদি রিভার্স করে জীবনটা পিছিয়ে নেওয়া যেত...আরেকবার যদি সবকিছু শুরু করা যেত প্রথম থেকে,কিন্তু এমনটা কখনও সম্ভব নয়।তাই সে আশায় গুড়েবালি.....
বন্ধুবান্ধব,পরিচিত ছোট/বড় যার সাথে দেখা হোক প্রথমেই জ্ঞান বিতরণ শুরু করে,যেন এক একজন মহা জ্ঞানী বু্দ্ধিজীবির দল,কিন্তু কখনো জানতে চায় না তোমার কি ইচ্ছে? কি করতে চাও? কি হতে চাও? স্বপ্ন কি?জীবনটা উপভোগ করছো কি?.......
গতকাল বহু বছর পরে হঠাৎ করে এক বন্ধুর সাথে কথা হচ্ছিলো
(আসলে চ্যাটিং হচ্ছিলো)
বন্ধুটি জানতে চাইলো How is life?
(আসলে চ্যাটিং হচ্ছিলো)
বন্ধুটি জানতে চাইলো How is life?
তারপর থেকে খালি মাথায় ঘুরছে শব্দ কয়টা।
How is life?
How is life?
How is life?
How is life?
How is life?
How is life?
কি ভীষন কঠিন প্রশ্ন।গড়গড় করে পরীক্ষা পাশের জন্য কত কঠিন কঠিন সব পড়া গলদেশে চালান করেছি,কিন্তু জীবন কেমন এটা কখনো আসেনিতো উত্তর দেওয়ার জন্য?
ক্ষানিক ভেবে বলেছিলাম, জীবন কেমন চলছে? এটা একটু কঠিন প্রশ্ন হয়ে গেলো দোস্ত। মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করি.. জাস্ট ট্রাই টু এডজাস্ট......
হ্যাঁ শুধু মানিয়ে নিতে চেষ্টা করা।বাসায়,কর্মস্থলে,বন্ধুবান্ধবের মাঝে,আড্ডাস্থলে,ঘরে,বাহিরে,পরিচিত,অপিরিচিত, যেকোন অবস্থায় শুধুই মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা।হ্যাঁ জীবন মানে শুধুই মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে যাওয়া,কিন্তু ইচ্ছেঘুড়ি গুলোর কি হবে? ইচ্ছেঘুড়ি গুলো ভোকাট্টা হয়ে যাবে?
যে ইচ্ছেঘুড়ি গুলো অলিক,অসম্ভব স্বপ্ন দেখায়,পাগলামি করার উৎসাহ যোগায়,যে স্বপ্নঘুড়ি গুলো নেশায় বুঁদ করে দেয় স্বপ্ন পূরণের নেশায় সেগুলোর কি হবে?
যে ইচ্ছেঘুড়ি গুলো অলিক,অসম্ভব স্বপ্ন দেখায়,পাগলামি করার উৎসাহ যোগায়,যে স্বপ্নঘুড়ি গুলো নেশায় বুঁদ করে দেয় স্বপ্ন পূরণের নেশায় সেগুলোর কি হবে?
কোন কিছু করার আগে ভাবতে হয় নিজের প্রিয় মুখগুলোর জন্য।চিন্তা থাকে কোন ভাবেই যেন প্রিয় মুখগুলো মলিন না হয় আমার কারনে।একটা সময়ে এসে উপলব্ধি হয় জীবনটা আমার নিজের হলেও এটা নিয়ে পাগলামি করার অধিকার আমার আর নেই।এই জীবনটাতে প্রিয় মুখ গুলোর দাবি আছে,অধিকার আছে। আদর,স্নেহ, ভালোবাসা,মায়া,মমতা,রাগ,অভিমান দিয়ে এই অধিকার তারা আদায় করে নিয়েছে।তাই চাইলেও আমি আর আমার স্বপ্নঘুড়ি উড়াতে পারিনা।আমার স্বপ্নঘুড়ির নাটায় যে আমার হাতে নেই!!
সেজন্য অনেক অনেক ইচ্ছে ও স্বপ্নকে বাক্সবন্দী করে রেখে দিয়েছি।মাঝে মাঝে বাক্সখুলে মলিন রং হারা স্বপ্নগুলোকে ধূলোবালি মুছে আবার সযত্নে তুলে রাখি।মলিন হোক, ছেঁড়া হোক তাও ফেলবো না।আগলে রাখবো যত্ন করে।
প্রচন্ড রাগ ও ভাবাবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিনা,ইদানিং এটা বেশি হচ্ছে।সেদিন অফিস থেকে ফিরে যখন ক্লান্ত শ্রান্ত দেহে আব্বুর পাশে বিছানায় এলিয়ে পড়লাম,তখন আব্বু একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললো সবকিছু মাথা ঠান্ডা রেখে করতে শেখো বাবা।পাগলামি করার বয়সটা আর নেই। জীবনের অনেকটা এখনও বাকি।আরো শক্ত হতে হবে তোমাকে,নিজের জন্য এবং তোমার পরিবারের জন্য (কথা বলার প্রেক্ষাপট অবশ্যই আমার হুটহাট রাগ,ভাবাবেগের বহিঃ প্রকাশ)।
আমিও বুঝি,কিন্তু অনেক সময় নিজেকে বোঝাতে পারি না।তারপরও মাঝে মাঝে জানতে ইচ্ছে করে কত অধরা স্বপ্ন বলি হয় ইচ্ছের বিরুদ্ধে ভালো থাকার অভিনয় করতে গিয়ে। ছোট্ট এই জীবনে কত রঙ্গিন স্বপ্ন থাকে।কয়টা আর পূরণ হয় তার মধ্যে? শুধু একবুক হাহাকার ভেসে বেড়ায় বাতাসে নিরবে।মাঝে মাঝে ঝড়ের রাতে বাতাসের যে শো শো শব্দ শোনায় সেটা কি স্বপ্নগুলোর গুমড়ে কাঁদার? কার স্বপ্নগুলো কাঁদে বাতাসে?
মাঝে মাঝে সবকিছু থেকে মুক্তি পেতে ইচ্ছে করে,জীবনের পূর্ণ স্বাধীনতা ভোগ করতে ইচ্ছে করে,ইচ্ছে করে গাংচিল হয়ে নিজের স্বপ্নের পিছনে ছুটি।
ইচ্ছে করে মুক্ত আকাশে ইচ্ছেঘুড়িটা উড়াতে,যেখানে কেউ আসবেনা বাঁধা দিতে।যেখানে শুধু আমার আমিই থাকবো আর কেউ না।
চাইলেও কি সব সম্ভব হয়? না হয় না।নিজের অনিচ্ছা স্বত্তেও অনেক সময় স্বপ্নঘুড়ি ছিড়ে কুটিকুটি করে ফেলে হাসি মুখে বলতে হয় আমি ভালো আছি।বুকে পাথর চেপে বলতে হয় আমি ঠিক আছি কিছু হয়নি তো!!
বুকের বা পাশটা চিনচিন করে ব্যাথা জানান দেয় যখন দেখি আমারই স্বপ্নগুলো আরেকটা স্বপ্নিল চোখে,যখন আরেকটা পাগলামির গল্প শুনি তখন মনে পড়ে যায় পিছনের অনেক অনেক স্মৃতির কথা।সুখ স্মৃতি? না। চিনচিনে ব্যাথা ছড়ানো স্মৃতি।
জীবনের গল্পটা সবার একরকম নয় হওয়ার কথাও নয়,কিন্তু তারপরও একটা সাধারন মিল আছে সবার জীবনে। সেটা কি? সেটা হল সবারই একটা ইচ্ছেঘুড়ি আছে।কেউ সেটা নিঃসঙ্কোচে উড়াতে পারে আর কেউবা পারে না।
জীবনের শেষ বেলায় এসে জীবন সায়াহ্নে যেন আফসোস করতে না হয় ভোকাট্টা ইচ্ছেঘুড়িটা কে নিয়ে।সময় থাকতে উড়িয়ে দাও নিজের ইচ্ছেঘুড়িকে যেন সেটা অন্যের আকাশে না উড়ে।
ঘুড়ি তুমি কার আকাশে ওড়ো.....
তার আকাশ কি আমার চেয়েও বড়?
তার আকাশ কি আমার চেয়েও বড়?
![]() |
| ইচ্ছেঘুড়ি....... |

Comments
Post a Comment